০২:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লুটপাটের ট্র্যাকে রেল

  • থিম বিক্রয়
  • প্রকাশের সময় ০৪:১৪:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩৮ সময় ভিউ

বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশ রেলওয়েতে সোয়া লাখ কোটি টাকার যে বিশাল বিনিয়োগ হয়েছে, সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতে এর প্রতিফলন অত্যন্ত নগণ্য। রেলের অবকাঠামো উন্নয়নে অঢেল অর্থ ব্যয় করা হলেও যাত্রীসেবার মান ও রেলের আয়-কোনোটিই আশানুরূপ বাড়েনি। বরং বিপুল পরিমাণ লোকসান ও ঋণের বোঝা প্রতিষ্ঠানটিকে এক নাজুক অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে। বলা বাহুল্য, যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিবর্তে অবকাঠামো নির্মাণে অধিক মনোযোগ দেওয়ায় রেলের উন্নয়ন ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। সোমবার যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ঢাকা-কক্সবাজার ও ঢাকা-যশোর রুটে বিপুল ব্যয়ে নির্মিত রেলপথে ট্রেনের সংখ্যা সমীক্ষার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। উচ্চগতিসম্পন্ন ইঞ্জিন ও কোচ কেনা সত্ত্বেও ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে ট্রেনের গড় গতি এখনো ধীর।

স্বাভাবিকভাবেই সময় ও সম্পদের এই অপচয় কেবল যাত্রীদের ভোগান্তিই বাড়াচ্ছে না, বরং রেলের পরিচালন ব্যয়ও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া কোচ স্বল্পতার কারণে ধারণক্ষমতার চেয়ে কম কোচ নিয়ে ট্রেন চলাচল এবং বিনা টিকিটে ভ্রমণের আধিক্য রেলের আর্থিক ক্ষতির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এবং রেলকে একটি লাভজনক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই। এজন্য প্রথমেই রেলের প্রতিটি প্রকল্পে কেনাকাটা ও নির্মাণ ব্যয়ের অস্বাভাবিকতা খতিয়ে দেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিতে হবে আইনগত ব্যবস্থা। পাশাপাশি বর্তমান ইঞ্জিন ও কোচগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি ট্রেনের পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী পর্যাপ্ত কোচ নিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হলে রেলের আয় দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ট্রেনের গতি বাড়ানোর মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় কমিয়ে আনা গেলে পরিচালন ব্যয় কমবে এবং যাত্রীদের আস্থাও বাড়বে। একইসঙ্গে বিনাটিকিটে ভ্রমণ কঠোরভাবে বন্ধ এবং টিকিট ব্যবস্থাপনায় শতভাগ ডিজিটাল স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করি আমরা। এছাড়া যাত্রীসেবার বাইরে পণ্য পরিবহণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আয়ের বিকল্প উৎস তৈরি করা সম্ভব হলে রেলের লোকসান অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা যাবে। ভুলে গেলে চলবে না, রেল রাষ্ট্রীয় সম্পদ। কাজেই এ খাতের বিশাল বিনিয়োগ যাতে প্রকৃতার্থেই জনকল্যাণে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।

ট্যাগ :
Theme Bikroy Ad
লেখক সম্পর্কে তথ্য

Demo Two

জনপ্রিয়

লুটপাটের ট্র্যাকে রেল

প্রকাশের সময় ০৪:১৪:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশ রেলওয়েতে সোয়া লাখ কোটি টাকার যে বিশাল বিনিয়োগ হয়েছে, সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতে এর প্রতিফলন অত্যন্ত নগণ্য। রেলের অবকাঠামো উন্নয়নে অঢেল অর্থ ব্যয় করা হলেও যাত্রীসেবার মান ও রেলের আয়-কোনোটিই আশানুরূপ বাড়েনি। বরং বিপুল পরিমাণ লোকসান ও ঋণের বোঝা প্রতিষ্ঠানটিকে এক নাজুক অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে। বলা বাহুল্য, যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিবর্তে অবকাঠামো নির্মাণে অধিক মনোযোগ দেওয়ায় রেলের উন্নয়ন ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। সোমবার যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ঢাকা-কক্সবাজার ও ঢাকা-যশোর রুটে বিপুল ব্যয়ে নির্মিত রেলপথে ট্রেনের সংখ্যা সমীক্ষার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। উচ্চগতিসম্পন্ন ইঞ্জিন ও কোচ কেনা সত্ত্বেও ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে ট্রেনের গড় গতি এখনো ধীর।

স্বাভাবিকভাবেই সময় ও সম্পদের এই অপচয় কেবল যাত্রীদের ভোগান্তিই বাড়াচ্ছে না, বরং রেলের পরিচালন ব্যয়ও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া কোচ স্বল্পতার কারণে ধারণক্ষমতার চেয়ে কম কোচ নিয়ে ট্রেন চলাচল এবং বিনা টিকিটে ভ্রমণের আধিক্য রেলের আর্থিক ক্ষতির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এবং রেলকে একটি লাভজনক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই। এজন্য প্রথমেই রেলের প্রতিটি প্রকল্পে কেনাকাটা ও নির্মাণ ব্যয়ের অস্বাভাবিকতা খতিয়ে দেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিতে হবে আইনগত ব্যবস্থা। পাশাপাশি বর্তমান ইঞ্জিন ও কোচগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি ট্রেনের পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী পর্যাপ্ত কোচ নিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হলে রেলের আয় দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ট্রেনের গতি বাড়ানোর মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় কমিয়ে আনা গেলে পরিচালন ব্যয় কমবে এবং যাত্রীদের আস্থাও বাড়বে। একইসঙ্গে বিনাটিকিটে ভ্রমণ কঠোরভাবে বন্ধ এবং টিকিট ব্যবস্থাপনায় শতভাগ ডিজিটাল স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করি আমরা। এছাড়া যাত্রীসেবার বাইরে পণ্য পরিবহণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আয়ের বিকল্প উৎস তৈরি করা সম্ভব হলে রেলের লোকসান অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা যাবে। ভুলে গেলে চলবে না, রেল রাষ্ট্রীয় সম্পদ। কাজেই এ খাতের বিশাল বিনিয়োগ যাতে প্রকৃতার্থেই জনকল্যাণে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।